রমযান মাসে কি করব?

             রমযান মাসে কি করব?

রমযান মাস রহমতের মাস, মাগফেরাতের মাস, জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস, ছওয়াব কামাই করার মাস, মেহনত করার মাস। যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ্‌ আমাদের রমযান মাস দিয়েছেন, সেই উদ্দেশ্য যদি আমরা হাছিল করতে পারি, তবেই রমযানের পূর্ণ খায়র ও বরকত হাছিল করতে পারব। শরিয়তের প্রত্যেকটা আমলের   একটা সহিহ উদ্দেশ্য থাকে। রমযানের তেমনি একটি বিশেষ উদ্দেশ্য আছে, আর তা হলো তাকওয়া অর্জন করা। তাকওয়া অর্জনের সহায়ক কিছু আমল নিচে তুলে ধরা হল-

১। চোখের হেফাজত করাঃ- চোখের দ্বারা যেনো কোনো গোনাহ না হয়।   অর্থাৎ- চোখের দ্বারা কোনো হারাম জিনিস দেখা থেকে বিরত থাকা।

২। মুখের হেফাজত করাঃ- অর্থাৎ- মুখকে গোনাহ থেকে মুক্ত রাখা। মুখের বড় দুটি গোনাহ হলঃ- ক) মিথ্যা বলা। খ) গিবত করা। আর এ দুটি কাজই হারাম।

৩। কানের হেফাজত করাঃ- অর্থাৎ- কানের দ্বারা যত গোনাহ হতে পারে, সেগুলো থেকে বিরত থাকা। যেমনঃ গান শোনা, মানুষের গিবত শোনা, অপবাদ ও মিথ্যা কথা শোনা।

৪। অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হেফাজতঃ- শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারাও যে সব গোনাহ হতে পারে তা থেকেও বিরত থাকা।

৫। অতি ভোজন না করাঃ- অতি ভোজন দ্বারা খাবার খাওয়ার উপর নিয়ন্ত্রন রাখাকে বোঝানো হয়েছে। অতি ভোজন দ্বারা কামভাব ও পাশবিকতা দমন হয় না। আর পাশবিকতা  ও কামভাব দমন না করলে গোনাহ বর্জন করা যায় না। গোনাহ বর্জন করা ছাড়া তাকওয়া অর্জন করা সম্ভব নয়।

৬। আশা ও ভয়ঃ- রমযান মাসে মনে মনে আল্লাহর কাছে মুক্তি ও রহমত লাভের আশায় ভয় ও সতর্কতার সাথে ইবাদত-বন্দেগী করতে হয়। আল্লাহর আযাবের ভয় মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হলে তবেই তার জন্য আল্লাহর হুকুম পালন করে শয়তানের ধোকা ও যাবতীয় গোনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়।

এভাবে উপরোক্ত ছয়টি বিষয় পালনের মাধ্যমে পুরো রমযান কাটবে গোনাহ মুক্ত অবস্থায়। শুধু গোনাহ মুক্ত অবস্থায়ই নয়, সেই সাথে সাথে পুরো রমযান কাটবে ইবাদতের মধ্যে। দিন কাটবে রোযা ও তিলাওয়াতের মধ্যে, আর রাত কাটবে তারাবিহ ও তাহাজ্জুদের মধ্যে।

রমযান মাসে আল্লাহ্‌ তায়ালা কুরআন মাজীদ নাযিল করেছেন। তাই এই মাসের সাথে কুরআন তিলাওয়াতের একটা বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আর এই কারণে আমাদের উচিৎ এই মাসে যত বেশি সম্ভব কুরআন তেলাওয়াত করা এবং যত বেশি সম্ভব নফল ইবাদত করা।

আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের সবাইকে কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার মাধ্যমে রমযানের সকল ফযিলত ও তাকওয়া অর্জনে কামিয়াবী দান করুন। আমীন। ছুম্মা আমিন।।